সমাজের ছোটো লোকরাই আসল বড় লোক

সমাজে এক শ্রেণীর লোক আছেন সমাজের কাছে এরা ছোটো লোক হিসেবেই বেশি পরিচিত। এই শ্রেণির লোকেরা সমজের কাছে খুব খারাপ বা নিচু শ্রেণীর মানুষ না অনেকে আবার তাদের মানুষ বলতেই চায় না ঘৃণা করে! যদিও সমাজের উঁচু জাত আজ এই উঁচুতে আসতে পারার কারণ এই ছোট লোকরাই। কিন্তু কিভাবে? নিচে কিছু উদাহরণ দিচ্ছিঃ

  • একজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার যখন একটি বিল্ডিং এর নকশা তৈরি করে তখন যে বিল্ডিং এর অবকাঠামো দাড় করানো লাগে। কিন্তু যখনই সেই অবকাঠামো দাড় করাতে যাবে ঠিক তখনই প্রয়োজন পরবে ছোট লোকদের। তাদেরই রক্ত ঘাম পরিশ্রম এর বিনিময়ে গড়ে ওঠে আসল অবকাঠামো। বিনিময়ে তারা পায় সামান্যতম কিছু মজুরি। তবুও তারা গালি শুনে যায় কিন্তু তারা না হলে সখের বাড়িটা কোটি টাকা দিয়েও পাওয়া যেত না।
  • সমাজকে যেই মানুষগুলো অন্ন দেয় তারা হচ্ছেন আমাদের কৃষক। দিনরাতে অক্লান্ত পরিশ্রম করে কিছু সুনির্দিষ্ট সময়ের পর কিছু সুনির্দিষ্ট ফসল তারা পায়। আর সেগুলো কিছু নিজের জীবিকার জন্য রেখে দিয়ে বাজারে বিক্রি করে দেয়। এই বিক্রিত ফসলের লভ্যাংশ দিয়েই বাকি সব কেনাকাটা করে জীবিকা করে থাকে খুবই কষ্টে।
  •  
    কবি রাজিয়া খাতুন চৌধুরানী চাষী কবিতাটি তাই এখানে একটু দিলাম।

    সব সাধকের বড় সাধক আমার দেশের চাষা,
    দেশ মাতারই মুক্তিকামি দেশের সে যে আশা।
    দধীচি কি তাহার চেয়ে সাধক ছিল বড়?
    পূন্য অত হবে নাকো সব করিলে জড়।
    মুক্তিকামি মহাসাধক মুক্ত করে দেশ,
    সবারই সে অন্ন জোগায় নাইকো গর্ব-লেশ।
    ব্রত তাহার পরের হিত-সুখ নাহি চায় নিজে,
    রৌদ্র-দাহে শুকায় তনু মেঘের জলে ভিজে।
    আমার দেশের মটির ছেলে নমি বারংবার,
    তোমায় দেখে চূর্ন হোক সবার অহংকার।

    চাষীরা আমাদের অন্যের যোগান দেয় যা বেচে থাকার একমাত্র ও প্রধাণ অবলম্বন। কিন্তু আমরা যা হিংসা করতেছি ঘৃণা করতেছি। যা কখনই কাম্য নয় বরং আমাদের সকলের উচিৎ তাদের সম্মান করা।

  • ছোট লোক শ্রেণীর আরেক ধরণের লোক আছেন। এরা আমাদের রাস্তাঘাট, ড্রেন সহ পরিবেশ নোংরা মুক্ত করার কাজ করে। এরাও সমাজের চোখে ঘৃনিত। কিন্তু একটি বারের জন্য হলেও কি ভেবে দেখেছেন যদি তারা নাইবা থাকত তবে আমাদের রাস্তাঘাট এর কি অবস্থা থাকত? আপনি স্বাভাবিক ভাবে দূষণ মুক্ত পরিবেশ এ থাকতেছেন তাকি থাকতে পারতেন? না কখনোই পারতেন না। আপনার জীবন হয়ে যেত বিরক্তিকর ও স্বাস্থসম্মতহীন। তাই তাদেরকে আমরা ঘৃণা না করে মানুষের চোখে দেখা উচিৎ।
  • আপনি অনেক দাম দিয়ে জুতা কিনলেন। কিছুদিন পর জুতাটায় যেকোনো ধরনের সমস্যা আসল তখন আপনার প্রয়োজন হবে মুচি। এই মুচিরাও অনেক জায়গায় অপদস্থ হয়ে থাকেন। আপনি যদি খেয়াল করেন তবে এদের ছাড়া আপনার হাজার টাকার জুতাটা পুরোই অকেজো হয়ে যেত। কিন্তু কখনই মনে দ্বিধাদ্বন্দ্ব না রেখে অন্য মানুষের জুতা ধরতে যাবেন না। তারা মাটির মানুষ হয়েই সবার জুতা সেলাই করতেছেন। তবুও তারা ছোট লোক সমাজে নিচু শ্রেণির মানুষ!

উদাহরণ তো কয়েকটাই দিলাম। এবার একটু ভেবে দেখুন তো সমাজে যদি এসব লোকগুলো না থাকত তবে আমাদের কি অবস্থা হতো! আমাদের সমাজের যে মূল ধারণ ও ভরণপোষণ কর্তারা তারা আজও সমাজে নির্যাতিত, শোষিত, ঘৃণিত। কিন্তু তারা ছাড়া এই সমাজের চলা বন্ধ, বদ্ধ হয়ে যেত। তবুও তারা হিংসা ত্যাগ করে মাটির মানুষ হয়ে আমাদের সমাজকে চালাচ্ছে। তাই টাকা ওয়ালা বড় লোকদের থেকে কম টাকা ওয়ালা ছোট লোকেরা যে মাটির মানুষ হয়ে সমাজে যে সেবা দিচ্ছে আমি বলবঃ সমাজের ছোটো লোকরাই আসল বড় লোক। আমাদের সকল এরই উচিৎ তাদের সাথে ভাল ব্যবহার করা, সম্মান ও শ্রদ্ধা করা।

যদি কেউ আরও কিছু পয়েন্ট দিতে চান তবে কমেন্ট করুন। আপনার ক্রেডিট দিয়ে উদাহরণে পয়েন্ট হিসেবে যুক্ত করা হবে!

Share:

Leave a Reply

All rights reserved by Kid Max.