পুরুষতান্ত্রিকতা থেকে মুক্ত হতে নারীর ঐক্য!

নারীরা এখন পুরুষদের থেকে বেশি পিছিয়ে পুরুষতান্ত্রিকতা থেকে মুক্তি পাবার জন্য। এখনো বহু নারী তাদের স্বাধীনতা নিয়ে সোচ্চার না বরং পুরুষদের গোলামী করার মনোভাব পোষণ করে। পাখির কাজ আকাশে ওড়া কিন্তু পুরুষতান্ত্রিকতা যখন খাঁচা হয়ে পিছু লেগে আছে আর পাখি নিজেও যখন খাচাটি নষ্ট করার চেষ্টায় ও পুরান হবার কারণে যে কিছু মুক্তো হবার পথ তৈরি হয় তা থেকে মুক্ত হতে চায় না। কিংকর্তব্যবিমূঢ় আমি ঠিক তখনই হই। একজন নারী যখন স্বাধীনতার কথা বলে তখন অন্য একজন বেশ্যা ট্যাগ লাগিয়ে দেয় সেও কিন্তু একজন নারীই। যদি মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি পাওয়া অবস্থা হয় মানে নারীকেই নারী বেশ্যা বলে তখন সেটা যে আরও বড় সুযোগ হয়ে যায় এবং সে নিজে তো গোলামী করার জন্য প্রস্তুত থাকে সাথে একটা মুক্ত পাখিকেও গোলামী করতে বাধ্য করার আঠা লাগিয়ে দেয়।আর বেশ্যা উপাধি!!! এটা তো পুরুষদের কারণেই হয়। যদি একজন পুরুষ টাকার বিনিময় করে এসব না করত তবে পৃথিবীর কোথাও বেশ্যালয় থাকত না। রাতের বেলা টাকার বিনিময় করে দিনে বেশ্যা গালি দেয়া লোকটা ছিল একজন পুরুষ! পুরুষের কারণেই নারী আজ বেশ্যা। নিজের শারীরিক কাজে যখন লাগে সেটা ঠিক আছে কিন্তু বহু পুরুষের শারীরিক প্রয়োজন মিটানোর কাজে পুরুষ তুমিই তো আশ্রয় দিয়েছিলে! তবে তুমি আবার তাকেই কেন গালিটা ছুড়লে? কেন সমাজে এমন একটা উপাধি আনলে যাতে নারী হল সমাজে কলঙ্কিত যদিও সেই কলঙ্কের দাগ তোমার কারণেই লেগেছে। একটি বারও কি ভেবে দেখেছ তাদের জন্য নিরপেক্ষ ভাবে। ভাববেই বা কেন তবে তো মূল দোষী তুমি হও তাই ভাবতে গেলেই সমস্যা। যেই পুরুষ তোমাকে শোষণ করেছে সেই পুরুষের দিকে আঙুল তুললে পুরুষতান্ত্রিকতার দিকে আঙুল তুললে তুমি যে তোমরই মত একজনকে কোনো কিছু না ভেবেই বেশ্যা কথাটা ছুড়ে দাও কখনও কি ভেবে দেখেছ যে বেশ্যা উপাধিটা তাদের জন্যই এসেছে! যারা নারীকে বেশ্যা বানাল তাদের একচুল কলঙ্কও লাগেনি লেগেছে তোমারই। বেড়িয়ে এসে খাঁচা থেকে মুক্ত হয়ে যাও তুমি পাখি। আঙুল তুলো তাদেরই দিকে আসল কলঙ্ক লেগ্র আছে যার গায়ে। তুমি স্বাধীন তুমি তো নও কলঙ্কিনী। তুমি তোমার মত বাচতে শিখ কার গোলামি করা না নাহি কাউকে গোলামি করতে দেবে।

Share:

There are 2 comments on পুরুষতান্ত্রিকতা থেকে মুক্ত হতে নারীর ঐক্য!

  • তরুলতা on

    বেশ্যা শব্দটি অবশ্যই অসম্মান এবং ঘৃনা অর্থে ব্যবহার হয়। অথচ উন্নত বিশ্বে এ কাজটিকে পেশা হিসেবে দেখা হয় এবং নারী এই যৌনকর্মীর পেশায় সব সম্মান ও অধিকার নিয়েই টিকে থাকে। কেউ স্বেচ্ছায় যৌনকর্মীরর পেশা চাইলে বেছে নিতেই পারে। দেখা যায় কোন নারীর অগ্রযাত্রাকে আটকে দিতে নারীরাই অনেক সময় এই বেশ্যা শব্দটি দিয়ে আঘাত করতে চায়। নারী মুলত: নিজেকে সমাজের চোখে শুদ্ধ এবং সম্মানিত দেখতেই পছন্দ করে আর এহেন অপবাদে অনেকেই আত্মবিশ্বাস হারিয়ে পিছিয়ে পড়ে। তবে যারা অপবাদ দেয় আর যারা ভেঙ্গে পড়ে দুই দলই ভুল করছে। এটা বুঝতে হবে ধর্মভীরু আর পুরুষতান্ত্রিক সমাজ এটাই চায়, তারা মেয়েদেরকে থামিয়ে দিতে চায়। নারী বেশ্যা গালিতে পিছিয়ে পড়লে চলবে না আর কে কীভাবে জীবিকার্জন করবে সেটাও তার নিজস্ব পছন্দ হওয়া উচিত।
    ভাল লেখার মাধ্যমে গ্রুপে সক্রিয় অংশগ্রহণের জন্য ম্যাক্সকে ধন্যবাদ

Leave a Reply

All rights reserved by Kid Max.