বৃদ্ধাশ্রম

– বৃদ্ধাশ্রম –

যে পিতামাতা ছাড়া এই পৃথিবীতে আসার কথা ভাবা যায় না। যাদের ছাড়া সন্তানের দেখা মিলত না এই পৃথিবীর আলো। যেই পিতামাতা ছাড়া আমরা জানতেই পারতাম না পৃথিবীর আলো বাতাস কেমন। যেই পিতামাতা ছাড়া আমাদের অস্তিত্ব, এই দেহের অস্তিত্ব ছিল অন্যকোনো ভাবে। সেই পিতামাতার কারণে সন্তানের জন্ম হলো যেই পিতামাতার কারনের সন্তানের সৃষ্টি হলো সেই পিতা মাতা যখন বয়স হয়ে যায় ঠিক তখনই তারা সন্তানের কাছে হয়ে যায় বোঝা। তখন যে সন্তানদের নিজ পেটে তিলে তিলে বড় করেছেন এবং পৃথিবীতে আসার পর লালন পালন করেছেন সেই মাকে, সন্তানদেরকে ঘুরতে নিয়ে যাওয়া, যখন যা চেয়েছে সাধ্যমত তাই দেয়ার চেষ্টা করা, ভালবাসা আদর যত্ন দিয়ে বড় বড় সেই বাবাকে বাকি জীবন কাটাতে হয় বৃদ্ধাশ্রমে।

যেই পিতামাতা এত কষ্ট করে সন্তানদের বড় করেছেন সেই পিতা কেন হবে সন্তানদের কাছে বোঝা? কেনই বা তাদের বোঝা ভাবা হবে? মাঝ বয়স থেকে পালন করে বড় করে যখন বৃদ্ধ হয়ে যান তখন তারা চায় বাকি জিবনগুলো নাতী নাতনীদের সাথে আনন্দে কাটিয়ে দিতে। পরিবারের সবার সাথে একসাথে থেকে নাতী নাতনীদের সাথে জমিয়ে একটু আড্ডা দিতে, কাব্য বা অন্যান্য বই পড়ে সময় কাটাতে। এতে পরিবার বেশ রমরমা, হাসি-খুশি ও আনন্দেই থাকে। কিন্তু ঠিক তখনই আমরা যদি ভাবি তারা আমাদের জন্য বোঝা, ঘরে কোণঠাসা করে রাখি তখন তাদের মনটা খারাপ থাকে। ঘরে থাকে না আর সেই আনন্দটা যেটা তারা ঘরে হাসি মাখা মুখে থাকলে যেটা হতো।

আর যদি তাদের ঠাই দেয়া হয় বৃদ্ধাশ্রমে তখন তাদের আসলেই কতটা কষ্ট লাগে তা পিতামাতার কাছ থেকে সন্তান যখন দূরে থাকে আর প্রবল ইচ্ছা সত্যেও বহুদিন সন্তানের সাথে দেখা হয় না, কথা হয় না, জানা থাকে না কেমন আছে সন্তান কি করছে আর তার সব জানতে, কথা বলতে ও সন্তানের মুখ দেখতে প্রবল ইচ্ছা হয় তখন তাদের যেমন লাগে তাদেরও ঠিক তেমনি লাগে।

তাদের মন কাদে তাদের সন্তানদের জন্য সন্তানদের মন নআ কাঁদলেও। তারা প্রতিক্ষণ সন্তানদের কথাই চিন্তা করে, তার সন্তানরা যেন সুখে থাকে, ভালো ও সুস্থ থাকে এই শুভ কামনাই করে, তার সন্তানরা তার জন্য ৬ মাসেও একবার না করলেও। বাড়ি থেকে সন্তানরা তাড়িয়ে দেয়ার জন্য বিন্দুমাত্র অশুভ কামনা করেনা যেন সন্তানরা দূর্ঘটনার শিকার বা অন্য কোনো বিপদে পরে, অসুখী থাকুক ইত্যাদি। তবুও সন্তানদের এ কেমন পাষাণ হৃদয় এ কেমন বাচ বিচার?

বৃদ্ধ বয়সে এসে সন্তানদের কাছে কি এমন চেয়েছিল যাতে পিতামাতা বোঝা মনে হলো? সন্তানদের জন্য সারাজীবন যত অর্থ তৈরি করেছে, পুঁজি করেছে তা কি চেয়েছে? নাকি বলেছে জায়গা জমি সব পিতামাতার নামে লিখে দিতে? এসব কিছুই করেনি। শুধু চেয়েছিল বৃদ্ধ বয়সে সন্তানের কাছে যত্ন আর ভালবাসা। এত কষ্ট করে যাদের বড় করেছেন তাদের সাথে থাকতে চাওয়া, তাদের থেকে একটু যত্নের আশা করা, একটু হাসি মুখে কথা বলা। এসব কি খুবই অন্যায়? এসব কি অনেক বোঝার? হয় তো আমরা অনেকেই ভাবি না কিন্তু চোখ দুটি বুঝে ঠান্ডা মাথায় নিজেকে সেই পিতামাতার অবস্থানে রেখে ভাবুন তো! সন্তানদের থেকে দূরে থাকাটা কতটা কষ্টের কতটা যাতনার। আপনি যদি সন্তানদের প্রতি এই ভালোবাসা এই দূরে থাকার কষ্ট অনুভব করেন বা করতে পারেন তবে আপনি কখনোই কোনো সন্তান তার পিতামাতা থেকে তাদের দূরে রাখতে পারে না। সে বুঝে যদি তাদের দূরে রাখি তবে তারা ততখানি কষ্ট পাবে যতখানি নিজে নিজের সন্তান থেকে দূরে থাকলে পাবে। পিতা মাতাকে কখনোই বৃদ্ধাশ্রম এ পাঠাবেন না। এতে তারা কষ্ট পাবেন।

তারা যদি সন্তানদের সাথে থাকে তবে সন্তানদের কিছু কষ্ট হতে পারে কিন্তু তাদের চোখে সন্তানদের প্রতি আরও ভালবাসা বেড়ে যাবে। একটু কষ্টের পরেও মাতাপিতা এবং সন্তানদের মধ্যে থাকে এক অন্যরকম সুখ অঅন্যরকম আনন্দ। যা কোটি টাকা দিয়েও কেনা সম্ভব নয়। তাদের বৃদ্ধাশ্রম এ পাঠানো বন্ধ করুন নিজের পরিবারের সাথে রেখে তাদের যত্ন করুন। মনে রাখবেন এই পৃথিবীতে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হচ্ছেন পিতামাতা।  তাদের অস্তিত্ব ছাড়া সন্তান অস্তিত্বহীন।

Share:
All rights reserved by Kid Max.